BN/Prabhupada 0770 - আত্মতত্ত্ববিৎ। কেন আমি আত্মাকে ভালবাসি



Lecture on SB 2.1.1 -- Paris, June 9, 1974

প্রভুপাদঃ যেমন আমাদের কৃষ্ণ ভাবনামৃত আন্দোলনে আমরা কৃষ্ণকথা ছাড়া এর কিছুই বলি না এবং আমরা যদি কৃষ্ণকথা বলতে থাকি, এখনকার অবস্থা অনুযায়ী কমপক্ষে চারশ বছর আমরা কথা বলতে পারব তবু আমাদের সংগ্রহ কম শেষ হবে না। আমাদের এতোই কিছু আছে আমাদের সংগ্রহে যা আছে তাতে আমরা যদি আগামী একশ বছর ধরে একটানা পড়তে থাকি, এবং শ্রীমদ্ভাগবতের একটা শব্দও বুঝতে চেষ্টা করি, এটা একশ বছর লাগবে সেই একটা শব্দ হচ্ছে জন্মাদ্যস্য যতো (ভাগবত ১.১.১) যদি কেবল এই একটাই বুঝতে চাও এটা নিয়েই একশ বছর বুঝতে পার। শ্রীমদ্ভাগবত এতোই অপূর্ব। প্রতিদিন পড়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবত দুটোই। রোজদিন। যতই তুমি তা উপলব্ধি করতে থাকবে , তুমি নতুন নতুন অর্থ পাবে, নতুন আলো পাবে শ্রীমদ্ভাগবত এতোই দারুন। কেবল শ্রীমদ্ভাগবত পড়লেই... বিদ্যা ভাগবতাবধিঃ। কেউ হয়তো শিক্ষিত... শিক্ষার সীমা কি? শিক্ষার সীমা মানে যখন তুমি শ্রীমদ্ভাগবত বুঝতে পেরেছো। সেটি হচ্ছে সীমা। ব্যাস্‌। আর কোন জ্ঞানের দরকার পড়ছে না। তাই বলা হয়েছে শ্রোতব্যাদিষু যঃ পরঃ (ভাগবত ২.১.১) পরম সীমা। প্রথম শ্রেণীর জ্ঞান।

কিন্তু অপশ্যতাম্‌ আত্মতত্ত্বম্‌ গৃহেষু গৃহমেধিনাম্‌ (ভাগবত ২.১.২) গৃহমেধীরা জানে না যে আত্মা আছে এবং সেই আত্মা নিত্য আমরা সুখের পেছনে ছুটছি কার সুখের জন্য? এটি আসলে আত্মার সুখ। শ্রীকৃষ্ণের সুখ। আমরা এই দেহটিকে সুরক্ষা দিতে চাইছি। এই দেহের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত , কেন? কারণ এর ভেতরে আত্মা রয়েছে। সবাই এটি জানে যেই মাত্র এতে আত্মা থাকবে না এই দেহটি লোকে ছুঁড়ে মারবে রাস্তায় ছুঁড়ে মারবে। মৃত দেহের জন্য কেউ পরোয়া করে না যেমন ধর, একটি সুন্দর দেখতে ছেলে বা মেয়ের মরা দেহ পড়ে আছে, রাস্তায় শুয়ে আছে। কে এই দেহকে পাত্তা দেবে? কিন্তু যতক্ষণ আত্মা রয়েছে, "ওহ্‌ ছেলেটি কি সুন্দর, এই মেয়েতি কি সুন্দরী"। আত্মা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই আমরা আসলে দেহকে ভালবাসি না। সেই একই দেহ তো ওখানেই পড়ে আছে। তাহলে কেন তোমরা সেটিকে পরোয়া করছ না? কারণ তাতে আত্মা নেই... তাই আমি আত্মাকে ভালবাসি। সেটিই বাস্তব সত্য। এর নাম আত্মবিৎ, আত্মতত্ত্ববিৎ। এবং আমি কেন আত্নাকে ভালবাসি? কারণ আমি কৃষ্ণ কে ভালবাসি। আত্মা হচ্ছে সেই কৃষ্ণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবং আমি আত্মাকে কেন এতো ভালবাসি? কারণ আত্মা কৃষ্ণের অংশ। তাই চরমে আমি প্রকৃতপক্ষে শ্রীকৃষ্ণকেই ভালবাসি। এই হচ্ছে সিদ্ধান্ত। যদি আমি শ্রীকৃষ্ণকে ভাল না বাসি তাহলে সেটি আমার অস্বাভাবিক অবস্থা। স্বাভাবিক অবস্থা হচ্ছে কৃষ্ণকে ভালবাসা। তাই আমরা সকলের মাঝে কৃষ্ণ ভাবনামৃত জাগরিত করার চেষ্টা করছি। যেই মাত্র কেউ কৃষ্ণভাবনামৃতে স্থিত এবং কৃষ্ণকে ভালবাসতে শুরু করেন, তখন তিনি আর কাউকেই ভালবাসতে চান না। স্বামিন্‌ কৃতার্থোহস্মিন্‌ বরম্‌ ন যাচে। (CC Madhya 22.42) "আমি এখন পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট" নয়তো আমাদের অনেক প্রশ্ন, অনেক উত্তর থাকবে, যতদিন না আমরা আত্ম উপলব্ধ হচ্ছি, আমাদের সময় কেবল নষ্টই হবে।

তাই এই কৃষ্ণপ্রশ্ন, কৃষ্ণজিজ্ঞাসা, এইসব নিয়মিতভাবে চলতে হবে। আর সেই সঙ্গে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তোমরা ভগবদগীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতে পেয়ে যাবে। এবং সেই সম্পর্কে কেবল প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমেই তোমার জীবন সফল হবে।

অনেক ধন্যবাদ।

ভক্তবৃন্দঃ জয় প্রভুপাদ।